• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
করোনা মোকাবেলায় ‘সফল’ হাসিনা সরকার!
করোনা মোকাবেলায় ‘সফল’ হাসিনা সরকার!

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

 করোনা ভাইরাস উদ্ভবের পর বাংলাদেশ সরকার গলাবাজি করেছিল যে তারা করোনা মোকাবেলায় ভাল প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কেমন জনসেবা দিয়েছে তা দেশের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অবগত এবং ভুক্তভোগী। সরকার ঘোষিত লকডাউন, ত্রাণ, স্বাস্থ্য সেবা কার্যকরী করতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল। হাসপাতালগুলো ব্যবসা করে চলেছে জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগে। চিকিৎসা কর্মীরা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছিল না, নেই। সে সময়ে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন ইত্যাদি ছিলনা। জনগণের একাংশ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ কিনেছেন, খাচ্ছেন।    

এমন মহামারী পরিস্থিতিতেও আওয়ামী নেতা, মাস্তান, আমলা ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ছাড়িয়ে তা চলেছে স্বাস্থ্যখাতে। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ১০০ দিন পূর্তির প্রাক্কালে টিআইবির দেওয়া রিপোর্ট বলেছে এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি বাড়তি দামে মানহীন মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার টিআইবি সহ বিভিন্ন রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই সব দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে বুর্জোয়া মিডিয়াগুলোর বদলে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় হাসিনা সরকার ‘ডিজিটাল’ আইনকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটনার অভিযোগ এনে বহু স্ট্যাটাস প্রদানকারীকে গ্রেফতার করে দমন করেছে। শেষ পর্যন্ত তাদের দুর্নীতির কলঙ্ক ঢাকতে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করে দায় এড়াতে আইওয়াশ করার চেষ্টা করেছে মাত্র। কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ হয়নি।     

সরকার করোনা মোকাবেলায় সফলতা দেখাতে কম টেস্ট, কম শনাক্ত, কম মৃত্যু এই অপকৌশল নিয়েছে। জনগণ হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে হাসপাতাল বিমুখ হয়েছেন। সরকারি হিসেবে যে শনাক্ত এবং মৃত্যু সংখ্যা দেখানো হয়েছে বা হচ্ছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি করোনাক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। কিছু গবেষকের মতে জুলাই’২০ পর্যন্ত ঢাকার অর্ধেক মানুষ (৪৫%) করোনা আক্রান্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী তিন মাসে আক্রান্ত হার বেড়ে ৬৫% ছাড়িয়েছে। ৮ মার্চ  থেকে ২৬ ডিসেম্বর’২০ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২২০৬ জন, যা সরকারি হিসেবে নেই। এছাড়া গ্রামে-গঞ্জে যে অসংখ্য মানুষ মারা গেছেন তার হিসাব পত্রিকা বা গবেষক পর্যন্ত আসেইনি। সরকার ব্যাপক জনগণের করোনা টেস্টের কোনো পরিকল্পনা-উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করে তাকে রোধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম দিকে পরীক্ষাগার কম এ অজুহাত ছিল, পরে সারাদেশে শতাধিক পরীক্ষাগার তৈরি হলেও কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকার পরীক্ষা কমিয়ে হাজার/বারোশতে নামিয়ে এনেছে।   ডিসেম্বর’২০ এবং জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার কম দেখানো হচ্ছে। এই যে করোনার শনাক্তের হার কম হচ্ছে এতে সরকারের কোন কৃতিত্ব নেই। প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের দেশে করোনা মোকাবেলা হচ্ছে। তাছাড়া পরীক্ষিত নমুনর বড় অংশই বিদেশগামী যাত্রীদের, যারা মূলত সংক্রমিত নন জানতেই পরীক্ষা করান।    

সরকার করোনা প্রতিরোধে ঠিক কোন কাজটা করেছে সফলভাবে সেটা খুঁজলে পাওয়া যাবে না। গত বছর প্রথম দিকে লকডাউন নিয়ে যে নাটক সরকার করেছে তা ছিল এক ব্যর্থ ও হাস্যকর উদ্যোগ। পরে জনগণের জীবনকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিতে ফেলে সবকিছুই খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে অর্থনীতিটা চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়ে সরকারের ‘কৃতিত্ব’ বাড়িয়েছে। কিন্তু এর ফলশ্রুতিতে দেশে ইতিমধ্যেই ৮ হাজারের বেশি মৃত্যু ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহেই প্রকৃত সংখ্যার অনেক কম। এই কার্যক্রম শুধু মার্কিনি ফ্যাসিস্ট ট্রাম্পের সাথেই তুলনীয়। কিন্তু তবুও গবেষণা সংস্থাগুলোই বলছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ৪২% হয়েছে।    এখন করোনার টিকা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ যে বাণিজ্য শুরু করেছে হাসিনা-আওয়ামী সরকার সেই কাফেলায় সামিল হয়েছে। সরকার ভারতীয় ঔষধ কোম্পানির উপর নির্ভর করেই বসে আছে। অন্যকোনো দেশের উদ্ভবিত টিকার জন্য কোনো রকম উদ্যোগ দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। দেশীয় গবেষকদের উদ্যোগকে তারা শুরু থেকেই গলা চেপে ধরেছে।  

তাছাড়া টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকার এবং সংগ্রহ করার ডিজিটাল যে পদ্ধতি যেভাবে নির্ধারণ হয়েছে তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্ষমতার ভিত পোক্ত এবং দলীয়করণ নীতিরই প্রকাশ ঘটেছে। দেশের শ্রমিক-কৃষক এবং শ্রমজীবী জনগণ বঞ্চিত হবেন। আর টিকায় বাণিজ্য এবং দুর্নীতি দুটোই সমানভাবে চলবে।   

করোনা মোকাবেলায় ‘সফল’ হাসিনা সরকার!

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

 করোনা ভাইরাস উদ্ভবের পর বাংলাদেশ সরকার গলাবাজি করেছিল যে তারা করোনা মোকাবেলায় ভাল প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কেমন জনসেবা দিয়েছে তা দেশের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অবগত এবং ভুক্তভোগী। সরকার ঘোষিত লকডাউন, ত্রাণ, স্বাস্থ্য সেবা কার্যকরী করতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল। হাসপাতালগুলো ব্যবসা করে চলেছে জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগে। চিকিৎসা কর্মীরা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছিল না, নেই। সে সময়ে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন ইত্যাদি ছিলনা। জনগণের একাংশ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ কিনেছেন, খাচ্ছেন।    

এমন মহামারী পরিস্থিতিতেও আওয়ামী নেতা, মাস্তান, আমলা ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ছাড়িয়ে তা চলেছে স্বাস্থ্যখাতে। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ১০০ দিন পূর্তির প্রাক্কালে টিআইবির দেওয়া রিপোর্ট বলেছে এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি বাড়তি দামে মানহীন মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার টিআইবি সহ বিভিন্ন রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই সব দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে বুর্জোয়া মিডিয়াগুলোর বদলে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় হাসিনা সরকার ‘ডিজিটাল’ আইনকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটনার অভিযোগ এনে বহু স্ট্যাটাস প্রদানকারীকে গ্রেফতার করে দমন করেছে। শেষ পর্যন্ত তাদের দুর্নীতির কলঙ্ক ঢাকতে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করে দায় এড়াতে আইওয়াশ করার চেষ্টা করেছে মাত্র। কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ হয়নি।     

সরকার করোনা মোকাবেলায় সফলতা দেখাতে কম টেস্ট, কম শনাক্ত, কম মৃত্যু এই অপকৌশল নিয়েছে। জনগণ হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে হাসপাতাল বিমুখ হয়েছেন। সরকারি হিসেবে যে শনাক্ত এবং মৃত্যু সংখ্যা দেখানো হয়েছে বা হচ্ছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি করোনাক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। কিছু গবেষকের মতে জুলাই’২০ পর্যন্ত ঢাকার অর্ধেক মানুষ (৪৫%) করোনা আক্রান্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী তিন মাসে আক্রান্ত হার বেড়ে ৬৫% ছাড়িয়েছে। ৮ মার্চ  থেকে ২৬ ডিসেম্বর’২০ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২২০৬ জন, যা সরকারি হিসেবে নেই। এছাড়া গ্রামে-গঞ্জে যে অসংখ্য মানুষ মারা গেছেন তার হিসাব পত্রিকা বা গবেষক পর্যন্ত আসেইনি। সরকার ব্যাপক জনগণের করোনা টেস্টের কোনো পরিকল্পনা-উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করে তাকে রোধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম দিকে পরীক্ষাগার কম এ অজুহাত ছিল, পরে সারাদেশে শতাধিক পরীক্ষাগার তৈরি হলেও কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকার পরীক্ষা কমিয়ে হাজার/বারোশতে নামিয়ে এনেছে।   ডিসেম্বর’২০ এবং জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার কম দেখানো হচ্ছে। এই যে করোনার শনাক্তের হার কম হচ্ছে এতে সরকারের কোন কৃতিত্ব নেই। প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের দেশে করোনা মোকাবেলা হচ্ছে। তাছাড়া পরীক্ষিত নমুনর বড় অংশই বিদেশগামী যাত্রীদের, যারা মূলত সংক্রমিত নন জানতেই পরীক্ষা করান।    

সরকার করোনা প্রতিরোধে ঠিক কোন কাজটা করেছে সফলভাবে সেটা খুঁজলে পাওয়া যাবে না। গত বছর প্রথম দিকে লকডাউন নিয়ে যে নাটক সরকার করেছে তা ছিল এক ব্যর্থ ও হাস্যকর উদ্যোগ। পরে জনগণের জীবনকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিতে ফেলে সবকিছুই খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে অর্থনীতিটা চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়ে সরকারের ‘কৃতিত্ব’ বাড়িয়েছে। কিন্তু এর ফলশ্রুতিতে দেশে ইতিমধ্যেই ৮ হাজারের বেশি মৃত্যু ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহেই প্রকৃত সংখ্যার অনেক কম। এই কার্যক্রম শুধু মার্কিনি ফ্যাসিস্ট ট্রাম্পের সাথেই তুলনীয়। কিন্তু তবুও গবেষণা সংস্থাগুলোই বলছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ৪২% হয়েছে।    এখন করোনার টিকা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ যে বাণিজ্য শুরু করেছে হাসিনা-আওয়ামী সরকার সেই কাফেলায় সামিল হয়েছে। সরকার ভারতীয় ঔষধ কোম্পানির উপর নির্ভর করেই বসে আছে। অন্যকোনো দেশের উদ্ভবিত টিকার জন্য কোনো রকম উদ্যোগ দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। দেশীয় গবেষকদের উদ্যোগকে তারা শুরু থেকেই গলা চেপে ধরেছে।  

তাছাড়া টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকার এবং সংগ্রহ করার ডিজিটাল যে পদ্ধতি যেভাবে নির্ধারণ হয়েছে তাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্ষমতার ভিত পোক্ত এবং দলীয়করণ নীতিরই প্রকাশ ঘটেছে। দেশের শ্রমিক-কৃষক এবং শ্রমজীবী জনগণ বঞ্চিত হবেন। আর টিকায় বাণিজ্য এবং দুর্নীতি দুটোই সমানভাবে চলবে।   

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র